খুলনার দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান মোল্লার হত্যার রহস্য এখনো পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। তবে ঘটনার ধরন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, এতে চরমপন্থী নেতা হুমায়ুন কবির ওরফে হুমার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী জড়িত থাকতে পারেন।
গত শুক্রবার (১১ জুলাই ২০২৫) দুপুরে মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় নিজ বাসার সামনে মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি করে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে। এই ফুটেজ থেকে নেওয়া স্থিরচিত্র ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছবিতে হুমায়ুন কবিরের সহযোগীদের দেখা গেছে। পুলিশও এ বিষয়টি স্বীকার করেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “পুরো রহস্য এখনো উদঘাটন হয়নি, এবং সুস্পষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায়নি। তবে ফুটেজে দেখা গেছে, হুমার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে যাচ্ছিল। তারাই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে—এটিই এখন প্রাথমিকভাবে জোরালো। তাদের একজনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছি।”
মাহবুবুর রহমানের বাড়ি দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায়। তিনি নিজের প্রাইভেট কার পরিষ্কার করার সময় তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। একজন হেলমেট পরা ছিল। ঘটনার পর মাহবুবুরের বাবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয়রা ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে বলছেন, মোটরসাইকেলের মাঝে বসা যুবক আসিফ মোল্লা এবং চালক কাজী রায়হান ইসলাম। দুটি ছবিতে পেছনে থাকা যুবকের চেহারা ভিন্ন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে হত্যার সময় আরও কয়েকজন ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ছিলেন।
পুলিশ, স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্র জানায়, গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মাহবুবুর বেপরোয়া আচরণ, জমি দখল, এবং সম্পত্তি বিক্রির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে জড়িত ছিলেন। তিনি বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ এবং এক চরমপন্থী নেতার আত্মীয় হওয়ায় এলাকায় প্রভাবশালী ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য, মাদক নিয়ন্ত্রণ, এবং চাঁদাবাজির বিরোধে তিনি একাধিক পক্ষের টার্গেটে পরিণত হন।
দৌলতপুর, দেয়ানা, এবং তেলিগাতি এলাকায় চরমপন্থী দলগুলোর আধিপত্য নিয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত ১৫ মার্চ চরমপন্থী নেতা শেখ শাহীনুল হক (বড় শাহীন) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পূর্বে মাহবুবুর হুমায়ুন কবির (হুমা), কাজী রায়হান, আসিফ মোল্লা, ইমন হাওলাদার, হোসেন ঢালী, এবং আরমানের দলে ছিলেন। এই দলটি এখন দুটি ভাগে বিভক্ত: হুমায়ুনের নেতৃত্বে রায়হান, আসিফ, এবং ইমন; এবং অপর পক্ষে হোসেন ঢালী ও আরমান। গত জুন মাসে কুয়েট-সংলগ্ন খানাবাড়ী এলাকায় যুবলীগ নেতা আরিফ হত্যাকাণ্ডেও এই দুই পক্ষের কয়েকজনের নাম উঠে আসে।
কয়েক মাস আগে বাগেরহাটের একটি অস্ত্র মামলায় হুমায়ুন, রায়হান, আসিফ, এবং ইমন গ্রেপ্তার হন। গত মাসে আসিফ, রায়হান, এবং ইমন জামিনে মুক্তি পান, তবে হুমায়ুন এখনো কারাগারে। অন্য এক মামলায় হোসেন ঢালী এবং আরমানও কারাগারে রয়েছেন।
সূত্র জানায়, আরমান মাহবুবুরের আত্মীয়। মাহবুবুর হোসেন ঢালী ও আরমানের মামলার দেখভাল করছিলেন, যা হুমায়ুনের পক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। মাহবুবুরের ঘনিষ্ঠ এক রাজনৈতিক সহকর্মী বলেন, “হুমার গ্রুপ মনে করত মাহবুবুর তাদের ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি কারাগারে হুমার সঙ্গে দেখা করে ভুল-বোঝাবুঝি মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তবুও কারাগার থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।”
দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী বলেন, “হত্যার কারণ মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। আমরা আগেই সজল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছি, যাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার দিন সজলের সঙ্গে থাকা আলাউদ্দীন নামে আরেকজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। শিগগিরই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.