Monday, July 14, 2025

ট্রাম্পের ৩০ শতাংশ শুল্ক হুমকির কাছে কি নতি স্বীকার করতে যাচ্ছে ইইউ?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

তবে গত শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি জোটটির আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ইইউ ইতিমধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত আলোচনায় গোপনে নতি স্বীকার করেছে। কূটনীতিকেরা স্বীকার করেছেন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় ইউরোপ বাণিজ্যিক স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। গত তিন সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কী ঘটেছে, তা ফিরে দেখা যাক। জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইইউ কঠোর অবস্থানে ছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের অর্থনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করেছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ইউরোপের ১৪০ কোটি ইউরো মূল্যের বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। সে সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অবস্থানের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন ইইউর কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা। তাঁরা বলেছিলেন, গাড়ি, গরুর মাংস, বিমানের যন্ত্রাংশ ও ইথানলের মতো পণ্য নিয়ে এত হালকা কোনো চুক্তিতে তাঁরা কখনোই সই করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের শুল্ক হ্রাস–সংক্রান্ত চুক্তি আইনিভাবে বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। একজন কূটনীতিক দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘স্টারমারের মতো আমরা কখনোই কোনো চুক্তি করব না।’ অন্য একজন কূটনীতিক বলেছেন, তাঁরা এমন একটি চুক্তির প্রত্যাশা করছেন, যা যুক্তরাজ্যের মতো হালকা নয়, আবার চীনের মতো প্রতিশোধমূলকও নয়। *গার্ডিয়ান*কে একজন কূটনীতিক বলেন, যদি ইউরোপ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায় বা কঠোর নিয়মকানুনের দাবি না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনভিত্তিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি চাকরির অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক সুরক্ষা ও জনসেবার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। সে সময় ইউরোপ গুগল, মাইক্রোসফট, এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর করারোপের কথা তুলেছিল। পাশাপাশি গাড়ি ও মদের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে ইউরোপের অবস্থান বদলে যায়। ইইউ তখন যুক্তরাজ্যের মতোই একটি হালকা চুক্তির পথে হাঁটছিল। তারা গাড়ি রপ্তানিতে ২৭.৫ শতাংশ ও ইস্পাত আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক থেকে কিছুটা ছাড় পেতে চাইছিল। এর বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অধিকাংশ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে রাজি ছিল। এই চুক্তির প্রস্তাব ট্রাম্পের টেবিলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার থেকে ইউরোপ তাঁর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। ইউরোপীয় ই�ユনিয়নের অবস্থান বদলানোর কারণ কী? এক কথায়: রাশিয়া। গত সপ্তাহে একজন কূটনীতিক স্বীকার করেন, জুনের মাঝামাঝি ন্যাটো সম্মেলনে কিছু কঠিন সত্য সামনে এসেছে। সামরিক হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আকাশে ও ভূমিতে বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা গড়ে তুলতে ইইউর আরও ৫-১০ বছর সময় লাগবে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। ট্রাম্প ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছেন। কেউ কেউ মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি চাটুকারিতার বিরোধিতা করলেও একজন কূটনীতিক বলেছেন, ‘আমরা যা চেয়েছি, তা পেয়েছি।’ অন্য একজন কূটনীতিক বলেছেন, ইইউ কখনোই জাপানের মতো কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না, কারণ জাপান প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এতটা নির্ভরশীল নয়। আলোচনার এই মোড় পরিবর্তন নিয়ে জানতে চাইলে গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে একজন কূটনীতিক বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া ভীষণ কঠিন ছিল। এই আলোচনাগুলোকে আলাদা করে দেখা কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের পুরো সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা। এখানে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি দুটি দিক রয়েছে। আমরা এমন একটি সমাধান খুঁজছি, যাতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মধ্যে ভারসাম্য করা যায়।’ কূটনীতিকেরা স্বীকার করেন, তাঁরা যে চুক্তির আশা করছিলেন, সেটি ছিল বড় ধরনের ছাড়। কিন্তু এবার ট্রাম্পের কারণে খেলাটা আবার ঘুরে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক প্রায় নিশ্চিতভাবেই বাণিজ্যযুদ্ধ বাধিয়ে দেবে। এমনকি ১৫ শতাংশ শুল্কের বোঝাও সহ্য করা কঠিন হবে।
আজ সোমবার ব্রাসেলসে ইইউর বাণিজ্যমন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। আজ রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রতিশোধমূলক শুল্ক বসানোর স্থগিতাদেশ শেষ হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্সসহ কিছু দেশ বৈঠকে আবারও কঠোর অবস্থানে ফেরার দাবি তুলবে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.