Sunday, August 31, 2025

১৩ বছর পর সনদ পাওয়া ভুক্তভোগীকে ১৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায় বহাল

১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর এলএলবি স্নাতকের সনদ পেয়েছিলেন মুন্সী মহিউদ্দিন আহমেদ। তাঁকে ১৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, এই আদেশ দেন।

২০২১ সালে মহিউদ্দিন হাইকোর্টে রিট করে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। প্রাথমিক শুনানির পর ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল জারি করেন। শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই মাসের মধ্যে ১৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়ে। ব্যর্থ হলে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে মুনাফা দিতেও বলা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর লিভ টু আপিল করে, যার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ আল আসাফুর আলী রাজা। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম শামসুল হক ও মো. সাইফুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। মহিউদ্দিনের আইনজীবী এম শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপিল বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভ টু আপিল খারিজ করেছেন। ১৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬০ দিনের মধ্যে এই অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী সৈয়দ আল আসাফুর আলী রাজা বলেন, ‘আপিল বিভাগের আদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’ নথিপত্র অনুযায়ী, মুন্সী মহিউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত যশোরের শহীদ মশিউর রহমান কলেজ থেকে এলএলবি (শেষ বর্ষ) পরীক্ষায় অংশ নেন। ১৯৮৮ সালের মে মাসে ফলাফল প্রকাশিত হয়, যাতে তিনি অনুত্তীর্ণ হন। তিনি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করেন এবং একই বছর যশোরের আদালতে ঘোষণামূলক মামলা করেন। ১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট যশোরের আদালত রায় দেন, সাতটি পত্রের মধ্যে দ্বিতীয় পত্রের নম্বর বাদ দিয়ে বাকি ছয়টি পত্রের গড় নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল ঘোষণার নির্দেশ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় এই রায়ের বিরুদ্ধে যশোরের জেলা জজ আদালতে আপিল করে। ১৯৯৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আগের রায় বহাল রাখা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন করে। ১৯৯৯ সালের ৮ আগস্ট হাইকোর্ট আবেদন খারিজ করে ফলাফল ঘোষণার নির্দেশ বহাল রাখেন এবং মহিউদ্দিনকে মামলার খরচ পাওয়ার অধিকারী বলে উল্লেখ করেন। ২০০১ সালের ২৯ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মহিউদ্দিনকে কৃতকার্য ঘোষণা করে এবং তাঁর এলএলবি সনদ ইস্যু করে।
২০২ৰ সালে মহিউদ্দিন ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠান, যাতে কোনো ফল না পেয়ে ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট করেন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.