পাকুন্দিয়ায় অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই: চালকের মৃত্যু, গ্রেফতার ২
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মো. সুলতান (৬২) নামে এক অটোরিকশা চালককে চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায় একটি চক্র। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সুলতানের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে এবং এ ঘটনায় আরো তিনজনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন গোপালগঞ্জের গোপিনাথপুর এলাকার মরহুম জসিম উদ্দিনের ছেলে হিরু শেখ (৪৫) এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আমাটি শিবপুর গ্রামের মরহুম আফাজ উদ্দিনের ছেলে বিপ্লব (৪৫)। শনিবার (১৬ আগস্ট ২০২৫) রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে পাটুয়াভাংগা ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুলতান প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতে বাড়ি থেকে বের হন। পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ মসজিদের সামনে একটি চক্র তাকে নেশাজাতীয় পানীয় খাইয়ে অজ্ঞান করে অটোরিকশাটি নিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, সেখান থেকে তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরদিন তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সুলতানের স্ত্রী মোছা. মিনা আক্তার ৮ আগস্ট পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরগঞ্জ শহরের উজান ভাটি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১৮ হাজার টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং চোরাই অটোরিকশা উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।