গাজীপুরে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট ২০২৫) রাতে চান্দনা চৌরাস্তার ঈদগাহ মার্কেট এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত একটি ‘হানিট্র্যাপ’ থেকে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে তুহিন একটি হামলার ভিডিও ধারণ করার জন্য লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। হামলার সঙ্গে জড়িত এক নারী, গোলাপি, বর্তমানে পুলিশের খোঁজে প্রধান সন্দেহভাজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সূচনা হয় যখন গোলাপি নামে এক নারী বাদশা মিয়া নামে একজনকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলেন। তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র যুবকরা বাদশাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। কাছাকাছি থাকা তুহিন এই ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করছিলেন। তার এই কাজে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তাকে তাড়া করে। তুহিন প্রাণ বাঁচাতে ঈদগাহ মার্কেটের রুহুল আমিনের চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুক, গলা, কাঁধ ও পিঠে আঘাত করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এই ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে, যেখানে গোলাপি এবং হামলাকারীদের মধ্যে ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, শাহ জামাল, বুলেট এবং সুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা বাসন, ভোগড়া এবং চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) রবিউল হাসান জানান, হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাতেই ঘটনাস্থলের আশপাশে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। পুলিশের একাধিক টিম গোলাপি এবং চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, এটি বাসন, ভোগড়া ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কাজ।
অন্যদিকে, গাজীপুর সদর থানার কাছে আরেক সাংবাদিক, আনোয়ার হোসেন, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে মারধর ও ইট দিয়ে পা থেঁতলানোর শিকার হন। তার মা আনোয়ারা সুলতানা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় ফরিদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে শুক্রবার (৮ আগস্ট) গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক ইউনিয়ন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে। গাজীপুর প্রেস ক্লাব, জামায়াতে ইসলাম, বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন তুহিনের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছে।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.