তিন দফা দাবিতে সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন রুটে চলাচল করা যাত্রীরা। মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট ২০২৫, বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায়।
স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেট ভাঙাসহ তিন দফা দাবিতে মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট ২০২৫, দুপুরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের দুই স্থানে এবং নগরের সদর রোডে “বরিশাল ব্লকেড” কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন করছেন।
দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে বরিশাল বিভাগের সব জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তীব্র গরমে হাজারো যাত্রী অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। বিকল্প পথে কিছু যানবাহন ঢাকার উদ্দেশে চললেও তাদের ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। নগরের সদর রোড অবরোধের ফলে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে, যা নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
পটুয়াখালী থেকে আসা যাত্রী আলী আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তীব্র গরমে রাস্তা আটকে আন্দোলন করার কী যুক্তি? জনগণের পক্ষে হলে জনভোগান্তি কেন সৃষ্টি করা হচ্ছে?”
বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন সিকদার বলেন, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও সদর রোড অবরোধ করেছেন, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আমরণ অনশন করছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের দাবিতে ১৭ দিন ধরে চলছে আন্দোলন। ছাত্র-জনতার ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে। গত শুক্রবার থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ শুরু হয়। শুক্রবার সাড়ে সাত ঘণ্টা, শনিবার সাড়ে চার ঘণ্টা, রোববার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এবং সোমবার সাড়ে চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।
রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বরিশালে এসে সমস্যা সমাধানের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেন। সোমবার বিকেলে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে তারা বরিশাল ব্লকেড ঘোষণা করেন।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি:
১. শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
২. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন।
৩. স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া।
মহিউদ্দিন রনি বলেন, “দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আমরা সরকারি হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে আন্দোলন করছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে আসেননি, শের-ই-বাংলার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দেননি। বরিশালবাসীর আর্তনাদ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি। এই অবস্থা চললে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.