সময়টা ২০২৪ এর জুলাই! চারিদিকে মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ, সেই সাথে লাশ গুম করার পায়তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনা পন্থী তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অস্ত্র দ্বারা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রায় দেড় হাজার নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র জনতাকে হত্যা করে বসা খুনি হাসিনার পক্ষ নিয়ে সেদিন সামাজিক মাধ্যম কাঁপিয়েছিলেন বাবার অবৈধ টাকার গরমে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করা নামধারী বাটপার ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি।
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এই পতিত স্বৈরাচারের দোসরের বাবা, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
এখন চারিদিকে প্রশ্নের জোয়ার—হত্যা মামলার আসামি নাটের গুরু আফ্রিদি কখন গ্রেফতার হচ্ছেন? এই সেই আফ্রিদি, যিনি কি না নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পয়সা খেয়ে ছাত্র আন্দোলনকে দমানোর জন্য সব ইউটিউবারকে নানানভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাসিনা আর আওয়ামী লীগের পক্ষে ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করছিলেন সেই অভ্যুত্থানের সময়। কোটি কোটি টাকা দিয়ে ইনফ্লুয়েন্সারদের খুনি হাসিনার দরবারে নিয়ে গেছেন এই বাটপার।
এছাড়াও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, শ্লীলতাহানির ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার একাধিক খুনের মামলার আসামি এই আফ্রিদি। প্রতারণামূলক বিভিন্ন মামলাও রয়েছে মানুষরূপী ভণ্ড এই ছদ্মবেশীর বিরুদ্ধে।
আর সম্প্রতি ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবের জন্মদিন ঘিরে কালচারাল ফ্যাসিস্টদের হঠাৎ করে মুজিববাদী হয়ে ওঠা কিংবা সামাজিক মাধ্যমজুড়ে শোক জানানোর যে মিশন—তার পিছনেও রয়েছেন এই বাটপার আফ্রিদি, এমনটিই বলছেন দেশের কিছু ইনফ্লুয়েন্সার এবং অ্যাক্টিভিস্ট।
তাদের দাবি, ২৪-এর মতই আফ্রিদি এবারও দায়িত্ব নিয়েছেন সেলিব্রিটিদের হাসিনার দেওয়া অবৈধ টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করাবেন। আর তার অংশ হিসেবেই চাপ প্রয়োগ করে পয়সা খাইয়ে দেশের প্রথম সারির সব তারকাদের দিয়ে মুজিববাদী পোস্ট করিয়েছেন, শোক জানানোর ব্যবস্থা করেছেন।
এমনকি অভিযোগ রয়েছে, আফ্রিদি নিজের তত্ত্বাবধানে এক একজন তারকার জন্য এসব আলাদা আলাদা পোস্টার তৈরি করে দিয়েছেন, যাতে করে কারও সাথে কারও কথার সুর না মেলে।
এদিকে গতকাল (রোববার) বিকেলে গুলশান থেকে আফ্রিদির বাবাকে আটক করে ডিবির একটি বিশেষ দল। তাকে বর্তমানে রাখা হয়েছে মিন্টোরোডে ডিবি কার্যালয়ে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া ‘আসাদ হত্যা’ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন নাসির উদ্দিন। মামলাটি করেছেন নিহত আসাদের বাবা মো. জয়নাল আবেদীন।
জানা গেছে, এই মামলায় শুধু নাসির উদ্দিন নন, তার ছেলে নাটের গুরু তৌহিদ আফ্রিদিও অভিযুক্ত। মামলার তালিকায় তিনি ১১ নম্বর আসামি। ২৫ জনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে এই মামলায়, যার মধ্যে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা (১ নম্বর আসামি), সাবেক সেতুমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট ওবায়দুল কাদের (২ নম্বর), এবং স্বৈরাচারের দোসর সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩ নম্বর)।
এই গ্রেফতারের পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন আফ্রিদি। ‘জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ)’ নামক একটি সংগঠন ইতিমধ্যে আফ্রিদিকে গ্রেফতারের জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে।
রোববার তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সরকারকে ২৬ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়েছে, “তৌহিদ আফ্রিদি এখনো বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন, নাটক না করে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।”
যদিও এই বাটপার তৌহিদ আফ্রিদি বর্তমানে কোথায় আছেন, কিংবা তিনি আত্মগোপনে আছেন কি না তা নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন। তবে জেআরএ’র পোস্টে আফ্রিদির সাম্প্রতিক একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি এখনও দেশেই আছেন।
এখন দেখার বিষয়, বাবার পর ছেলেও কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়বেন? নাকি আলটিমেটাম শেষেও এই খুনি থাকবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.