১৯৬৬ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রথম প্রচারিত হয় *নতুন কুঁড়ি*। অনুষ্ঠানের নামটি এসেছিল কবি গোলাম মোস্তফার ‘কিশোর’ কবিতা থেকে, যার প্রথম ১৫ লাইন অনুষ্ঠানের সূচনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে মোস্তফা মনোয়ারের প্রযোজনায় পুনরায় শুরু হয় এই অনুষ্ঠান। এটি বিটিভির অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়, যেখানে দেশের নানা প্রান্তের তরুণেরা গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি, গল্পবলা ও কৌতুকের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পেতেন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠান পরে বিভিন্ন কারণে বন্ধ করে দেয় বিটিভি। ২০২০ সালে এটি পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও কোভিড মহামারির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
তিন দশকের ইতিহাসে *নতুন কুঁড়ি* অনেক তারকার জন্ম দিয়েছে, যাঁরা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, নাট্যাঙ্গন ও সংগীতজগতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরীসহ আরও অনেকে। ১৯৮২ সালের পুরস্কার বিজয়ী শিহান মনিরুল ইসলাম ও শাহনাজ চৌধুরী লুনাও এই তালিকায় রয়েছেন।
বিটিভির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মৌসুমের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে, যা চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দেশকে ১৯টি অঞ্চলে ভাগ করে প্রাথমিক বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। অঞ্চলগুলো হলো: ঢাকা-১ (ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ), ঢাকা-২ (মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী), ঢাকা-৩ (ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর), ময়মনসিংহ-১ (ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা), ময়মনসিংহ-২ (টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর), সিলেট (সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ), রংপুর-১ (রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা), রংপুর-২ (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়), রাজশাহী-১ (রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা), রাজশাহী-২ (বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ), খুলনা-১ (খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা), খুলনা-২ (যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল), খুলনা-৩ (কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা), বরিশাল-১ (বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর), বরিশাল-২ (পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা), চট্টগ্রাম-১ (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার), চট্টগ্রাম-২ (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি), চট্টগ্রাম-৩ (কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), চট্টগ্রাম-৪ (নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী)। প্রতিটি অঞ্চলের শিল্পকলা একাডেমি ভবন প্রাথমিক বাছাইয়ের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত।
প্রতিযোগিতা হবে নয়টি বিষয়ে: অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা বা কৌতুক, সাধারণ নৃত্য বা উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান বা আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত এবং হামদ-নাত। বয়সসীমা অনুযায়ী দুটি শাখা থাকবে: ‘ক’ শাখা (৬–১১ বছর) এবং ‘খ’ শাখা (১১–১৫ বছর)। বিভাগীয় বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত বাছাই ও ফাইনাল পর্ব হবে ঢাকায়, ২ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে।