Thursday, August 21, 2025

স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৫ : বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য। দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ বা নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসে বিনিয়োগ আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করবে।

টেক্সটাইল, সিমেন্ট, সার এবং অন্যান্য ভারী শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ অত্যন্ত প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, যা রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা না পেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ হারান, ফলে এফডিআই কমে যায়। জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংক সুদ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং আসন্ন এফবিসিসিআই নির্বাচনে সহসভাপতি প্রার্থী ও ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম। তারা মনে করেন, জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে দেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়। এর লক্ষ্য জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এজন্য দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, তেল বা অন্যান্য খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন, যা পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং দেশের নিজস্ব সম্পদ। **মাহবুবুর রহমান** বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য গুরুতর সমস্যা। অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। এর সমাধান না হলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। এলডিসি উত্তরণের জন্য ছয় বছরের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও তিনি উত্থাপন করেন। **মাহমুদ হাসান খান বাবু** বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আমেরিকার বাজারে আধিপত্য ধরে রাখা সম্ভব। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ৭-৮ বছরের মধ্যে দেশের গ্যাস মজুত ফুরিয়ে যাবে, এবং এলএনজি আমদানিতে বছরে ৮-৯ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে পোশাকখাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। **সাকিফ শামীম** বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে বা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং উৎপাদন খরচ বাড়ায়। তিনি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, বিশেষ করে অপশোর, এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি জানান, ৩৩% বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটে ভুগছে। দেশের ৪৭% বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্যাসভিত্তিক, ৬৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ১১,০০০ মেগাওয়াট, কিন্তু গ্যাস ঘাটতির কারণে ৩,০০০ মেগাওয়াট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ৩০০ কোটি ঘনফুট। তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ দেশীয় ক্ষেত্র ও এলএনজি আমদানি থেকে আসে, কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও উচ্চ দামের কারণে অনেক কারখানা চালানো কষ্টসাধ্য। মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, কিন্তু এগুলো সবসময় সক্রিয় থাকে না। তিনি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তির পরামর্শ দেন। গত ২০ বছরে কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি, এবং বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি অপশোর গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার এবং নবায়নযোগ্য শক্তি, যেমন সৌর, পারমাণবিক ও বায়ু বিদ্যুৎ, উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
**পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি**: ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী, যা অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.