Monday, August 4, 2025

স্বর্ণ পাচারের সময় বিমানবন্দরে আটক কেবিন ক্র

রুদাবা সুলতানা। ছবি : সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টাকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কেবিন ক্রুকে আটক করা হয়েছে। সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, বিকেলে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রুদাবা সুলতানা নামের এই সিনিয়র কেবিন ক্রুকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে ২৩০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করে।

কাস্টমস ও বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রিয়াদ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণ করে। নিয়ম মেনে ক্রুরা বের হওয়ার সময় রুদাবা সুলতানার সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। বডি স্ক্যানিংয়ের জন্য স্ক্যানার কক্ষে নেওয়ার সময় তিনি গড়িমসি করেন। এক পর্যায়ে তিনি অন্তর্বাসে লুকানো বিশেষভাবে তৈরি স্বর্ণের বার ছুড়ে ফেলে লুকানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে স্ক্যানিং মেশিনে দেহ তল্লাশি করে তার কাছে একটি নতুন আইফোন পাওয়া যায়। বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এসএম শরাফাত হোসেন কালবেলাকে বলেন, “ওই কেবিন ক্রুকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি অবৈধভাবে আনা পণ্য থাকার কথা অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে তিনি বিশেষভাবে লুকানো স্বর্ণ ছুড়ে ফেলে পা দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তা কাস্টমস সদস্যদের চোখ এড়ায়নি।” তিনি আরও বলেন, “উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন ২৩০ গ্রাম। একজন কেবিন ক্রু বিনা ঘোষণায় এটি বহন করতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।” বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রুদাবা সুলতানা চ্যালেঞ্জের সময় প্রথমে কাস্টমস সদস্যদের উল্টো চ্যালেঞ্জ করেন এবং নিজেকে কেবিন ক্রু ইউনিয়নের শীর্ষ এক নেতার বোন পরিচয় দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিমানের ফ্লাইট পার্সার বিভাগের সূত্র জানায়, রুদাবা সুলতানা এই বিভাগে প্রভাবশালী কর্মী। তার ভাই কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সভাপতি হওয়ায় পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তিনি ভিআইপি ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করতেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে তিনি বিমানবন্দরে নানা অনৈতিক সুবিধা নিতেন।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.