Thursday, August 28, 2025

ডাকসু নির্বাচনে বিদ্রোহ: গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি

ঢাকা, ২৮ আগস্ট ২০২৫ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, একটি প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ অশান্তির মুখোমুখি হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে, সংগঠনটি তাদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের অধীনে হাসিবুল ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে মনোনীত করেছিল। কিন্তু প্যানেল ঘোষণার মাত্র তিন দিন পর হাসিবুল ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হাসিবুল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক, প্রথম আলোকে বলেন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন যে এজিএস পদে নির্বাচন করলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তিনি বলেন, “এ কারণেই আমি এই পদে প্রার্থী হয়েছি।” হাসিবুল একা নন। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আরও তিন নেতা—তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী, সানজানা আফিফা (অদিতি) এবং আশিকুর রহমান (জীম)—এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘বিদ্রোহ’ করেছেন। এছাড়া, সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রার্থী হয়েছেন। মোট পাঁচজন নেতা এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা ক্যাম্পাসে ভোট বিভক্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটে তেমন প্রভাব ফেলবে না। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা অবশ্য জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। গত ফেব্রুয়ারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের একাংশের উদ্যোগে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ গঠিত হয়। এবারের ডাকসু নির্বাচনে তাদের প্যানেলের নাম বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ। কিন্তু প্যানেলের বাইরে এজিএস পদে চার নেতা এবং সম্পাদকীয় পদে অন্তত চারজন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। সদস্য পদেও তিনজন সংগঠনের প্যানেলের বাইরে নির্বাচন করছেন। প্যানেলে ভিপি পদে আব্দুল কাদের এবং জিএস পদে আবু বাকের মজুমদারের নাম অনেক আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। এজিএস পদের জন্য প্রাথমিকভাবে জাহিদ আহসান, তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী এবং হাসিবুল ইসলামের নাম আলোচনায় ছিল। তাহমীদের নাম চূড়ান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত আশরেফা খাতুনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাহমীদ প্রথম আলোকে বলেন, “প্যানেল গঠনের সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন। এটি আমাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব সৃষ্টি করেনি। আমরা চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটব্যাংক আলাদা, এটিকে কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখা যেতে পারে।” এজিএস পদে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সানজানা আফিফা বলেন, তিনি মনোনয়নপত্র কেনার শেষ দিন পর্যন্ত প্যানেলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। তাঁর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার দুটি কারণ: প্রথমত, সংগঠন শেষ দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেনি বা বিকল্প ব্যবস্থা দেখাতে পারেনি; দ্বিতীয়ত, সংগঠনের সিদ্ধান্তে বাইরের কিছু মানুষের প্রভাব কাজ করছিল। তিনি বলেন, “সংগঠনে অল্প কয়েকজন সিদ্ধান্ত নেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয় না। মিটিংয়ে শুধু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়, যা প্রায়ই মন্ত্রিপাড়া থেকে আসে। এটি সংগঠনের দুর্বল ভিত্তিকে উন্মোচিত করেছে।” মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ সালেহীন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে সাব্বির আহমেদ প্যানেলের প্রার্থী, আর শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। হল সংসদে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ কোনো আনুষ্ঠানিক প্যানেল ঘোষণা করেনি, তবে তাদের ৫৭ জন নেতা বিভিন্ন হল সংসদে প্রার্থী হয়েছেন। মুক্তসেন মোক্তার এবং আজিজুল হক পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আজিজুল প্রথম আলোকে বলেন, “সংগঠনে অল্প কয়েকজনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক নয়। মন্ত্রিপাড়া থেকে সিদ্ধান্ত আসে, যা সংগঠনের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।” উমামা ফাতেমা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে পৃথক প্যানেল করে ভিপি পদে নির্বাচন করছেন। মাহিন সরকারের নেতৃত্বে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে আরেকটি প্যানেল গঠিত হয়েছে, যিনি এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার বলেন, “এক পদে একাধিক প্রার্থী থাকা নির্বাচনী কৌশল। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.