Tuesday, August 5, 2025

মধ্য সেপ্টেম্বরে আসছে ইইউর প্রাক্‌–নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল

ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৫: আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বাংলাদেশে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রাক্‌–নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। তারা জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে আসছে। গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব জানান, ইইউর প্রাক্‌–নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলে তিনজন বিদেশি এবং চারজন স্থানীয়সহ মোট সাতজন সদস্য থাকবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জেনেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য ইসিকে দেওয়া হয়নি।

আগামী জাতীয় নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ চলতি মাসের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করছে ইসি। গতকালের ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব নির্বাচনের বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে বাদ পড়া ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর ৩১ আগস্টের মধ্যে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন কবে হবে, তার ওপর নির্ভর করে ইসি একটি ‘কাটআউট টাইম’ নির্ধারণ করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। নির্বাচনী আইন সংস্কারের অগ্রগতি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইনের সংশোধনী এবং ভোটার তালিকা আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশ ইসি পেয়েছে। ভোট কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, বিদেশি পর্যবেক্ষক নীতিমালা এবং সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি আগামী বৃহস্পতিবার ইসির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া, নির্বাচনী দ্রব্যাদি কেনাকাটার কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করবে ইসি, এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইসি সচিব আরও জানান, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। ৫১টি দলের মধ্যে ৩০টি দল প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, ১৫টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। একটি দল জানিয়েছে, তারা এ বছর নিবন্ধন পেয়েছে, তাই তাদের ক্ষেত্রে এ বছর হিসাব দেওয়ার বিধান প্রযোজ্য নয়। বাকি পাঁচটি দল হিসাব জমা দেয়নি, এবং এ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর এনসিপির নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের ‘মেরুদণ্ড নেই’। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি সচিব হাস্যরস করে বলেন, ‘আমার মেরুদণ্ড না থাকলে আমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি কী করে? এটা নাম্বার ওয়ান। নাম্বার টু, এটা রাজনৈতিক বক্তব্য, আমার এলাকা নয়। আমার জায়গা হচ্ছে প্রশাসনিক। প্রথম উত্তরটাই যদি নেন, আমি এখনো সোজা হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। দোয়া করেন, যেন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি।’

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.