ফেনী, ২৮ আগস্ট ২০২৫ – ফেনীতে সন্তান প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারের (সিজার) ছয় মাস পর তীব্র পেটে ব্যথা অনুভব করেন ফরিদা ইয়াসমিন (৪০) নামের এক নারী। ব্যথা বাড়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। গত বুধবার রাতে ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পেট থেকে একটুকরা গজ কাপড় বের করা হয়। ফরিদার পরিবারের দাবি, প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক ভুল করে তাঁর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই ফেনী সিভিল সার্জন বরাবর অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ফরিদা ইয়াসমিন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়চাঁদপুর গ্রামের প্রবাসী মহি উদ্দিনের স্ত্রী। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফেনীর বেসরকারি আল-কেমী হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক তাসলিমা আক্তারের তত্ত্বাবধানে ফরিদার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। এক দিন পর বাড়ি ফিরে তিনি পেটে ব্যথা অনুভব করেন। ডা. তাসলিমাকে জানালে তিনি সিজার-পরবর্তী এমন ব্যথা স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু ব্যথা অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তাঁর পেটে রক্ত পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত গজ কাপড়ের টুকরা রয়েছে, যা দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
ফেনী সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, সিজারের রোগীর পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করায় ডা. তাসলিমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। “অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।