ফারজানা আক্তার পাঁচবিবি পৌর শহরের পোস্ট অফিসপাড়া মহল্লার জীবন হোসেনের স্ত্রী এবং জয়পুরহাট শহরের সাহেবপাড়া মহল্লার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন জানান, ফারজানার প্রথম স্বামী মারা গেছেন। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে। ফারজানা সম্প্রতি জীবন হোসেন নামের একজনকে বিয়ে করেন। তিনি জীবনের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁদের উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি ফারজানার পরিবার মেনে নেয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে ফারজানা ও জীবন সবুজনগর মহল্লার ওই বাসা ভাড়া নেন। সেখানে জীবন নিয়মিত থাকতেন না, মাঝেমধ্যে আসা-যাওয়া করতেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতে ওই বাসা থেকে ওড়না পেঁচানো ও ঝুলন্ত অবস্থায় ফারজানার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ সময় ফারজানা শাড়ি পরা ও পরিপাটি অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
বাসার মালিক আবু হাসেম বলেন, ‘ফারজানা ও তাঁর স্বামী জীবন প্রায় ছয় মাস আগে আমার বাসা ভাড়া নিয়েছেন। তাঁরা দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিটে থাকেন। আমরা পরিবার নিয়ে তৃতীয় তলায় বসবাস করি। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জীবন দ্বিতীয় তলায় নিজেদের বাসার দরজায় গিয়ে ফারজানাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। আমার ছেলেকেও ডাকাডাকি করতে বলা হলে সে গিয়েও কোনো সাড়া পায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় জীবন আবার গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করেন। এবারও কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের একটি গাছে উঠে জানালা দিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।’
ফারজানার ছোট ভাই মেজবা নাবিল বলেন, ‘আমার দুলাভাই মারা গেছেন। আট মাস আগে আমার বোন দ্বিতীয় বিয়ে করে ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন।’
জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম বলেন, ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।