| রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত |
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে ভারত প্রকৃতপক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থায়ন করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট (রোববার) ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউটার্স’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলার এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়ের মাধ্যমে ভারত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থায়ন করছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মিলার আরও জানান, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারত এখন চীনের সমপর্যায়ে রয়েছে, যা একটি বিস্ময়কর তথ্য। মিলারের এই মন্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারত। ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র গত শনিবার রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে। ইতিমধ্যে, রাশিয়া থেকে জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে, যা গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তবে, ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মিলার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেরুকরণ তীব্র হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলে অনেকের মত।