Saturday, August 23, 2025

সুদ দিতে না পারায় বসতঘরে তালা, ৮ দিন ধরে বারান্দায় রিকশাচালকের পরিবার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সুদের টাকার জন্য রিকশাচালক একরাম হোসেনের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে তালা মেরে দিয়েছে তোফায়েল আহম্মদ নামে এক সুদ কারবারি। এর ফলে গত ৮ দিন ধরে একরামের স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ি খোলা বারান্দায় ঝড়–বৃষ্টির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট, ২০২৫) বিকেলে চরকিং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চরবগুলা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনে বসে আছেন একরামের স্ত্রী ও শাশুড়ি। তাদের দুটি বসতঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। পাশে ছোট ছোট বাচ্চারা কাঁপতে কাঁপতে মশারির নিচে বসে আছে। স্থানীয়রা জানান, নিজের প্রয়োজনে একরাম তোফায়েল আহম্মদের কাছ থেকে সুদের ভিত্তিতে টাকা নিয়েছিলেন। নিয়মিত সুদের টাকা দিতে না পারায় তোফায়েল তার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে তালা মেরে দেন। এতে পুরো পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। রিকশাচালক একরাম হোসেন বলেন, ২০১৫ সালে দুর্ঘটনায় আহত দুইজনের চিকিৎসার জন্য আমি তোফায়েলের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেই। পরে আরও টাকা নেওয়ায় মোট ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ৭১ হাজার টাকা। এর বিপরীতে আমি ইতোমধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। তবুও সুদের ফাঁদে পড়ে জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একরাম অভিযোগ করে বলেন, তোফায়েল আমাকে কয়েক দফায় মারধর ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন। সম্প্রতি আমার অনুপস্থিতিতে তিনি ঘরের সব মালামাল বের করে তালা মেরে দিয়েছেন। ফলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বারান্দায় রাত কাটাচ্ছি। একরামের স্ত্রী বলেন, আট দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে খোলা বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রান্নাবান্না বন্ধ, প্রতিবেশীদের দয়ায় কোনোভাবে দিন পার করছি। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হালিম বলেন, টাকার জন্য কারো বসতঘরে তালা মারা চরম অমানবিক কাজ। শিশুরা ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় ভুগছে, কিন্তু ওষুধ কেনারও সামর্থ্য নেই তাদের। এ ঘটনা হৃদয়বিদারক। অভিযুক্ত তোফায়েল আহম্মদ বলেন, সে আমার কাছ থেকে লাভের ওপর টাকা নিয়েছে। টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তাই আমি তালা দিয়েছি। টাকা পরিশোধ করলে তালা খুলে দেব। চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাঈম উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সুদের পাওনার জন্য কারো বসতঘরে তালা মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমি চৌকিদার পাঠিয়ে তালা খোলার ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি দুইজনের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছি।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.