ঢাকা, ৪ আগস্ট ২০২৫: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, টানা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী অপশাসনের বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ছিল এক সম্মিলিত বিস্ফোরণ। এর মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বাণীটি তাঁর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব খাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জুলাই শহীদদের স্মৃতি রক্ষা ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে রাজনৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।”
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জুলাই আমাদের নতুন আশার আলো জাগিয়েছে—একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এনে দিয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনো দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন এক বাংলাদেশ গড়ি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না।”
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আজ আমি স্মরণ করছি সেই সব সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের, যাঁরা ফ্যাসিবাদী শক্তির মোকাবিলায় শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি সকল জুলাই যোদ্ধাকে, যাঁরা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। জাতি তাঁদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।”
Monday, August 4, 2025
Author: DhakaGate Desk
Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.
এ সম্পর্কিত আরও খবর
- ফেইসবুক মন্তব্য