Wednesday, August 20, 2025

২৪ লক্ষাধিক শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া, বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ

রিভাইজড কলিং ভিসা ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আগামী ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করবে মালয়েশিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে *মালয়েশিয়ান বিজনেস টুডে* এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এই বিপুল নিয়োগের ফলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতির এ দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিয়ন ইসলাইলের সঙ্গে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। সে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী চার মাসে কৃষি, বনায়ন, খনিজ সম্পদ আহরণ, কারখানায় পণ্য উৎপাদন, ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট ১৩টি উপখাতে শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। মালয়েশিয়ার কৃষি, শিল্প ও খনিজ উৎপাদন খাতে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সংকট চলছে, যা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার সংকুচিত রাখা মালয়েশিয়াও এখন বাজার উন্মুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কৃষি খাতে রাবার, পাম তেল, মাছ উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবায় শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। নির্মাণ খাতে নিয়োগপ্রাপ্তরা শুধু সরকারি ভবন ও অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করতে পারবেন। কারখানায় পণ্য উৎপাদন খাতে শ্রমিকরা কেবল মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) অনুমোদিত কারখানায় কাজ করতে পারবেন। একসময় মালয়েশিয়ায় কর্মী ভিসার জন্য আগ্রহীরা সরাসরি বা থার্ড পার্টির মাধ্যমে আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে সরকারের স্বীকৃত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করবে স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিটি, এবং যারা উত্তীর্ণ হবেন, তারাই পাবেন ভিসা। নব্বইয়ের দশকে মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকদের বাজারে বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন। তবে বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত ও ভিয়েতনাম এই বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। তবে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির কারণে এবার নতুন প্রকল্পে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.