সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদের ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলন চলছে। সেই বালু ফেরিঘাট এলাকায় মজুত করা হচ্ছে এবং ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখা গেছে গত সোমবার দুপুরে।শ্রীপুর, রাংপানি, জাফলং, সংরক্ষিত বাংকার এলাকাসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও পর্যটনকেন্দ্র থেকে নির্বিচার বালু লুট চলছে। এই লুটপাটের কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এসব স্থান এখন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা চক্র প্রকাশ্যে এই লুটপাট চালাচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসন অভিযান চালালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
শ্রীপুর ও রাংপানি একসময় পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। ১৯৯২ সালে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) শ্রীপুরকে পাথর কোয়ারি হিসেবে ইজারা দেওয়া শুরু করে এবং ২০১৩ সালে এটি গেজেটভুক্ত হয়। এর ফলে শ্রীপুরের সৌন্দর্য ধীরে ধীরে বিবর্ণ হতে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ে রাংপানিতেও। ২০২০ সালে ইজারা বন্ধ হলেও অবৈধভাবে বালু-পাথর লুটপাট অব্যাহত থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। আগে গোপনে যে লুটপাট চলত, তা এখন প্রকাশ্যে।
বড় বড় পাথরের অধিকাংশই লুট হয়ে গেছে। নদী ও চর থেকে বেলচা-কোদাল দিয়ে বালু খুঁড়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রীপুর ও রাংপানি শ্রীহীন হয়ে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে শ্রীপুরের উৎসমুখে নদীতে পানি কম থাকায় বালুর অসংখ্য স্তূপ দেখা যায়। কিছু ব্যক্তি নৌকায় বালু তুলছিলেন। তবে স্থানীয়রা জানান, চলমান অভিযানের ভয়ে বালু লুট বন্ধ রয়েছে। রাংপানির বাননঘাট, আদর্শ গ্রাম ও বাংলাবাজারে ১৫-২০ জনকে বালু তুলতে দেখা গেছে। শ্রীপুরেও একইভাবে পাথরের পাশাপাশি বালু লুট চলছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, ইজারাবহির্ভূত মহাল থেকে বালু লুট হচ্ছে। ইজারাদারদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। জেলার পর্যটনকেন্দ্র ও সংরক্ষিত এলাকা থেকে পাথর লুটের পর এখন বালুতেও লুটপাটকারীদের নজর পড়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সিলেটে ৪০টি বালুমহালের মধ্যে ২০টি ইজারাযোগ্য। এর মধ্যে ১৫টি ২৭১.৫ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
**নির্বিচার বালু লুট**
গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সেতুর আশপাশে নৌকা ও বাল্কহেডে বালু মজুত ও পরিবহন চলছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় জাফলংয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও চা-বাগানের পাশে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে বালু তুলতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জাফলং থেকে ১০-১৫ কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে।
গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, আগে হাজারো নৌকা দিয়ে লুটপাট হলেও এখন অভিযানের কারণে তা কমেছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালাখালের পথে ফেরিঘাট থেকে শত শত বালুবোঝাই নৌকা দেখা গেছে। বড়গাং নদের ইজারাভুক্ত মহালে শ্রমিকরা বালু তুলছিলেন। আবদুল মান্নান নামে একজন জানান, ইজারা একজনের নামে হলেও ২০-৩০ জন অংশীদার রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ভুলবশত ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু তুললেও তা বন্ধ করা হয়েছে।
জৈন্তাপুরের ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, ইজারাবহির্ভূত বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াইন নদের সঙ্গে যুক্ত বাওন হাওর, খাসি নদ, নলজুরি নদ থেকেও বালু লুট চলছে। রাজনৈতিক ঐকমত্যে গড়ে ওঠা চক্র এই লুটপাট চালাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের হাতে চলে যায়। অভিযুক্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নেতাদের নামও রয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবদুল আহাদ, আলমগীর হোসেন, জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম ও যুবদল নেতা দিলদার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পরিবেশবাদী আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বালু লুট অব্যাহত রয়েছে। কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।
Wednesday, August 20, 2025
Author: DhakaGate Desk
Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.
এ সম্পর্কিত আরও খবর
- ফেইসবুক মন্তব্য