Thursday, August 28, 2025

মিনিয়াপোলিসে ক্যাথলিক স্কুলে গুলি: দুই শিক্ষার্থী নিহত, ১৭ জন আহত; অস্ত্রে লেখা ছিল ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’, ‘ভারতে পরমাণু হামলা চালাও

গত বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫, যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে একটি ক্যাথলিক স্কুলের গির্জায় প্রার্থনা চলাকালীন ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

হামলাকারী, ২৩ বছর বয়সী রবিন ওয়েস্টম্যান, তিনটি অস্ত্র—রাইফেল, শটগান এবং পিস্তল—ব্যবহার করে গির্জার ভেতরে অসংখ্য গুলি চালায়। পরে স্কুলের পার্কিং লটে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, ওয়েস্টম্যান নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২০ সালে ওয়েস্টম্যান নিজের নাম রবার্ট থেকে পরিবর্তন করে রবিন রাখে, কারণ সে নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিত। পুলিশ জানিয়েছে, সে বৈধভাবে অস্ত্র কিনেছিল, তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না এবং হামলায় সে একাই জড়িত ছিল। ঘটনার আগে ‘রবিন ডব্লিউ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে অন্তত দুটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। প্রায় ১০ মিনিটের একটি ভিডিওতে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং লোড করা ম্যাগাজিন দেখানো হয়। ম্যাগাজিনে লেখা ছিল—‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করো’, ‘এখনই ট্রাম্পকে হত্যা করো’, ‘ইসরায়েলের পতন ঘটাতে হবে’, ‘ইসরায়েলকে পুড়িয়ে দাও’, ‘শিশুদের জন্য’ এবং ‘তোমাদের ঈশ্বর কোথায়?’। একটি অস্ত্রের গায়ে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল—‘নিউক ইন্ডিয়া’ বা ‘ভারতে পরমাণু হামলা চালাও’। ভিডিওতে ওয়েস্টম্যান পরিবারের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং একটি ছোট পিস্তল হাতে তুলে বলে, ‘এটি আমার জন্য। প্রয়োজনে ব্যবহার করব।’ দ্বিতীয় ভিডিওটি প্রায় ২০ মিনিটের, যেখানে দুটি জার্নাল দেখানো হয়—একটি ১৫০ পৃষ্ঠার বেশি এবং আরেকটি ৬০ পৃষ্ঠার বেশি। উভয় জার্নালই সিরিলিক লিপিতে লেখা এবং দ্বিতীয়টির সর্বশেষ তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৫। ম্যাগাজিনে অতীতের স্কুল হামলাকারীদের নামও পাওয়া গেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোম ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গভীরভাবে অসুস্থ এই হত্যাকারী অস্ত্রের ম্যাগাজিনে ‘For the Children’, ‘Where is your God?’ এবং ‘Kill Donald Trump’-এর মতো ভয়ংকর বার্তা লিখেছিল।’ ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় শোক ঘোষণা করেন এবং পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘এই সহিংসতা অকল্পনীয়। যারা শিশুদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তারা মানবতার শত্রু।’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এটি ১৪৬তম স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনা।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.