Thursday, August 14, 2025

জামিন পেয়েই ভারতে পালাল হত্যা মামলার আসামি এসআই আকবর

হত্যা মামলার আলোচিত আসামি এসআই আকবর হোসেন জামিন পাওয়ার পর ভারতে পালিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট ২০২৫, রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই পালানোর জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাঁচ বছর আগে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন রায়হান আহমদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে, এবং যেকোনো দিন রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু গত ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে ৯ আগস্ট রোববার তিনি সিলেটের কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর মঙ্গলবার রাতে তিনি আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

জামিন পাওয়ার ঘটনা সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন জড়িত ছিলেন। নিহত রায়হানের মা জামিনের খবরে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “এখন সে দেশ থেকে পালিয়ে যাবে।” তার এই আশঙ্কা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সত্যে পরিণত হয়। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবরকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, এই মামলার আরেক আসামি এএসআই আশিক এলাহীও শিগগিরই জামিন পেতে পারেন। মামলার বাকি আসামিরা বর্তমানে পলাতক, যাদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রে, একজন ফ্রান্সে এবং দুজন মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। ঘটনার দুই দিন পর ১২ অক্টোবর এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে এবং ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেফতার করে।
২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। এতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন এবং আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জের সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.