যানজট ও গণপরিবহনে নৈরাজ্যের কারণে জনভোগান্তি ঢাকা শহরের নিত্যদিনের চিত্র। কিছু এলাকায় গাড়ির গতি পথচারীদের হাঁটার গতির চেয়েও কম। এতে প্রতিদিন লাখো কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, শিগগিরই সব বাস একক ব্যবস্থাপনার অধীনে আসবে। এতে রুটে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ভাড়া নিয়ে প্রতারণা কমবে।
তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর এমন উদ্যোগ নতুন নয়। ২০১৫ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে একাধিকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও নানা কারণে এসব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট রুট ও স্টপেজ মেনে চললে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।
একজন পথচারী বলেন, “এটি একটি বড় সিন্ডিকেট। অন্তর্বর্তী সরকার যদি সব বাস একক ব্যবস্থাপনায় আনতে পারে, তবে এটি বড় অর্জন হবে।” আরেকজন যাত্রী বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে তা কখনো দেখিনি।”
ট্রাফিক পুলিশের মতে, বাসগুলো নির্দিষ্ট রুটে চললে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহিদ হাসান বলেন, “রাজধানীর অনেক স্থানে রোড মার্কিং নেই। এছাড়া পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নেই। এসব সমস্যার সমাধান হলে সড়কে বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমবে।”
যানজটমুক্ত শহর নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। প্রতিটি সরকারের আমলে যানজট কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে নতুন এই নিয়ম যানজট নিরসনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানজট ও গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলার কারণে প্রতি বছর প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তাই একক ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, “কয়েকটি রুটের বাস নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্তৃত্ব থাকবে না। ফলে রাষ্ট্র এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং ভালো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।”
যাত্রী থেকে ট্রাফিক পুলিশ— সবাই পরিবর্তনের আশায় থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে।
ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, “রাজধানীতে এখন বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি বিশৃঙ্খলভাবে চলছে। এগুলো হয় সরিয়ে দিতে হবে, নয়তো একত্র করে রুটে ভাগ করে দিতে হবে। তবে এই মুহূর্তে এটি বাস্তবায়ন নিয়ে আমি সন্দিহান।”
চালক, হেলপার কিংবা যাত্রী— কেউই নতুন এই পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত নন। সবার প্রশ্ন, এবারের নিয়ম কত দিন টিকবে? কিংবা এটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না?
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.