নরসিংদীর একটি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ১২ ঘণ্টা পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করেছে এবং ঘটনায় জড়িত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধারের পর নবজাতককে তার মা মিথিলা আক্তারের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী শহরের ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। চুরির ১২ ঘণ্টা পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার এবং সন্দেহভাজন নারীকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হওয়া নবজাতকটি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের বাড়ৈআলগী এলাকার মো. শরীফ ও মিথিলা আক্তার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান।
গ্রেপ্তার নারীর নাম ফাতেমা বেগম (৪০), তিনি শিবপুর উপজেলার কুমারটেক এলাকার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রায়পুরা উপজেলার মরজাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার ও শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে, রোববার বেলা ২টার দিকে হাসপাতালের কেবিন থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নবজাতকের পরিবার জানায়, শনিবার দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা মিথিলা আক্তার নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে স্বজনরা ছিলেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পরামর্শ দেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় একজন দালাল তাঁদের কম খরচে অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। শনিবার রাত ৮টার দিকে মিথিলা আক্তার ওই হাসপাতালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরে মা ও শিশুকে একটি কেবিনে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
রোববার বেলা ১১টার দিকে ফাতেমা বেগম ওই হাসপাতালে আসেন। তিনি কেবিনে গিয়ে নবজাতকের স্বজনদের বলেন, তাঁর একজন স্বজনের এই হাসপাতালে সিজার হবে এবং তিনি একটু আগে এসেছেন। তিনি কিছুক্ষণ কেবিনে বসে থাকেন এবং বেলা ২টার দিকে সুযোগ পেয়ে নবজাতককে কোলে নিয়ে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। এরপর ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়। রাত ২টার দিকে রায়পুরার মরজালের একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক ও নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, ওই নারী নিজেকে রোগীর আত্মীয় পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এবং শিশুটিও তাঁর কোলে ছিল। চুরি করে পালানোর পর জানা যায়, তিনি তাঁদের আত্মীয় নন।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারে কোনো পুত্রসন্তান নেই। তাঁর স্বামী তাঁকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছিলেন, তাই তিনি নবজাতক চুরি করেন।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.