Tuesday, August 19, 2025

কারাগারে থাকা লক্ষ্মীপুর যুবদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে নানা প্রশ্ন

গত ১০ আগস্ট ২০২৫, লক্ষ্মীপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে একটি একনলা বন্দুক ও ১ লাখ ৫ হাজার টাকাসহ জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানটি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পালেরহাট এলাকায় পরিচালিত হয়, যেখানে ফরিদের বাড়ি অবস্থিত। গ্রেপ্তারের পর একই দিন কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে।

তবে, গত সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরিদের ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, “আমি যেই মাপের লোক, আমারে সেই মাপের একটা অস্ত্র দিয়ে পাশাইতি (ফাঁসাইতি), যেমন বিদেশি পিস্তল, শটগান বা অন্যান্য অস্ত্র দিয়া পাশাইতি। বুড়া অস্ত্র দিয়া আমার মানসম্মান শেষ করলি।” স্ট্যাটাসের শুরুতে লেখা ছিল, “সবাই শেয়ার করবেন।” এটি পরে একবার সংশোধন করা হয়। এক ঘণ্টা পর ফরিদের মুক্তির দাবিতে পালেরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও লিংকও তাঁর আইডি থেকে শেয়ার করা হয়।

কারাগারে বন্দী থাকা একজন ব্যক্তির ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেফাজত বা কারাগারে মুঠোফোন ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল *প্রথম আলো*কে বলেন, “অস্ত্র মামলায় ফরিদকে গত রোববার পুলিশ রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে গতকাল রাত ৮টার দিকে তাকে কারাগারে আনা হয়। এর মধ্যে তিনি স্ট্যাটাস দিয়ে থাকতে পারেন। তবে কারাগারে মুঠোফোন ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।” লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, “রিমান্ড কিংবা হাজতে মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই। সম্ভবত ফরিদের পরিবারের কেউ তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ কে এম ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। অস্ত্রসহ অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ মুঠোফোন ব্যবহারের সম্ভাবনা অস্বীকার করলেও তদন্ত চলছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.