রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়নি। তিনি জামিনের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “লতিফ সিদ্দিকীর জামিনের জন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে গেলে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, তিনি বলেন, ‘যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিনও চাইব না।’”
অন্য আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল বলে জানান আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে সব আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌসিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহাম্মদ আলী এবং মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
শুক্রবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন, কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে, যখন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীরা এই প্ল্যাটফর্মকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হিসেবে অভিযোগ করে। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে অতিথি হিসেবে গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও আইনজীবী জেড আই খান পান্নার নাম ছিল।
অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত হলে একদল লোক তাকে ঘিরে ফেলে এবং আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের হেফাজতে নেয় এবং পরে শাহবাগ থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করে। রাতে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.