রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সোমবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর ওভাল অফিসে তাঁকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চান। যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপকে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। যুদ্ধ শেষে ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন শান্তিরক্ষী পাঠানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের সঙ্গে কাজ করব। দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য সবার সঙ্গে কাজ করব। চুক্তি যেন কার্যকর হয়, সেজন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে কাজ করব।’
জেলেনস্কি এ সময় বেশির ভাগ সময় চুপ ছিলেন। ভূখণ্ড ছাড় দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধ থামাতে হবে। রাশিয়াকে থামাতে হবে।’ তিনি ট্রাম্পের কূটনৈতিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন এবং পুতিনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবে সায় দেন।
জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেন।
এর আগে শুক্রবার আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি না হওয়ায় ট্রাম্প জানান, চুক্তি হলে তা রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেই হবে। এরপরই ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের ঘোষণা আসে। আলাস্কার বৈঠকের পর ট্রাম্পের সুর বদলে যায়। আগে তিনি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা বললেও এখন সরাসরি শান্তি আলোচনার কথা বলছেন। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি জানান, শান্তি চুক্তিতে ইউক্রেন ক্রিমিয়া ফিরে পাবে না এবং ন্যাটোতেও যোগ দিতে পারবে না।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন আলাস্কায় প্রস্তাব দেন, ইউক্রেন দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক রাশিয়ার হাতে তুলে দিলে রাশিয়া তাদের দখলকৃত কিছু অঞ্চল ছেড়ে দেবে। তবে জেলেনস্কি ভূখণ্ড ছাড়ার বিরুদ্ধে। রোববার ওয়াশিংটনে পৌঁছে তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘রাশিয়া যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তাদের তা শেষ করতে হবে। আমি আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের মিলিত শক্তি রাশিয়াকে সত্যিকারের শান্তি মেনে নিতে বাধ্য করবে।’