ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্য রুট পরিবর্তনের দাবিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। রোববার (১০ আগস্ট ২০২৫) সকালে তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘গ্রাম বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরাও’ এবং ‘জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও ভিটামাটি রক্ষা করব’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নারী-পুরুষ, শিশু, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধসহ হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ ধীরে ধীরে গণসমাবেশে রূপ নেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাবিত টার্নিং পয়েন্ট স্থাপনের জন্য তেঘরিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শত শত পরিবারের বসতভিটা, মসজিদ-মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ বিলুপ্ত হবে।
প্রতিবাদকারীরা জানান, তারা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নন, তবে উন্নয়ন হতে হবে মানবিক ও পরিবেশসম্মত। তারা বলেন, মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বদিকে রুট সরিয়ে নিলে গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষা পাবে এবং সরকারের বিপুল অর্থও সাশ্রয় হবে। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর প্রিয় প্রাঙ্গণ প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বক্তারা বলেন, এত বড় ফাঁকা জায়গা থাকতে বসতভিটা উচ্ছেদ করে রুট নেওয়া অমানবিক। মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষার সহজ সমাধান থাকা সত্ত্বেও কেন উচ্ছেদ করা হবে?
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের উচিত উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিকল্প রুট বিবেচনা করে গ্রাম ও পরিবেশ রক্ষা করা। অন্যথায় তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বাঘৈর নগরের স্থানীয় বাসিন্দা আল ইমরান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৫ বছরে শুধু তেঘরিয়া ইউনিয়ন থেকেই ১২০০ এর বেশি জমি সরকার নিয়ে নিয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় কারাগার, প্রিয় প্রাঙ্গণ, ঝিলমিল আবাসিক, সাউথ টাউন, র্যাব-১০, মায়াকানন, আমর্ড পুলিশ—প্রতিটি প্রকল্পেই আমরা জমি দিয়েছি। আর কত দেবে তেঘরিয়াবাসী?
ঢাকা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক জুয়েল মোল্লা বলেন, প্রস্তাবিত নকশা বাস্তবায়িত হলে গ্রামটির শত বছরের ইতিহাস মুছে যাবে, বসবাসের উপযোগিতা শেষ হয়ে যাবে। তেঘরিয়া ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ, যেখানে হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব—মানুষ নয়, রুট পরিবর্তন করুন।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.