গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর সড়কবাতির বৈদ্যুতিক তার চুরির পর এবার শতাধিক রিফ্লেক্টর লাইট (লাল বৃত্তের মধ্যে) চুরি হয়েছে। গত শনিবার রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটলেও রোববার বিষয়টি জানতে পারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে একের পর এক বৈদ্যুতিক তার ও রিফ্লেক্টর লাইট চুরির ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সেতুতে যানবাহন চলাচল ও এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যা হলেই সেতু এবং দুই পাশের কয়েক কিলোমিটার সংযোগ সড়ক অন্ধকারে ডুবে যায়। বৈদ্যুতিক তার চুরির পর দিনে পুলিশ পাহারা থাকলেও রাতে কোনো পুলিশ থাকেন না।
সোমবার দুপুরে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে প্রায় ১৫০টি রিফ্লেক্টর লাইট লাগানো ছিল। যানবাহনের আলো এসব লাইটে পড়লে তা জ্বলে ওঠে। এর মধ্যে শতাধিক রিফ্লেক্টর লাইট চুরি হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলো লাইট চুরি হয়েছে, তা গণনার জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। চুরির বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এর আগে সেতুর ল্যাম্পপোস্টের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট সেতুটি উদ্বোধনের পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে মাটি খুঁড়ে প্রায় ৩০০ মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। এ ঘটনায় সেতুর দায়িত্বপ্রাপ্ত পাহারাদার নুরে আলম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলায় কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, চুরির ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। চুরি হওয়া বৈদ্যুতিক তার ও রিফ্লেক্টর লাইট উদ্ধারে অভিযান চলছে। চোর চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া যানজট নিরসন ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সেতু এলাকায় পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিগগিরই একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং স্থায়ী ক্যাম্পের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
১,৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৬ মিটার প্রস্থের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার, সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে এলজিইডির বাস্তবায়নে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। এটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরঘাট থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে। ফলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এবং চিলমারী থেকে ৯৩ কিলোমিটার কমেছে।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.