প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর হল সংসদ নির্বাচনে দুটি সম্পাদকীয় পদে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন দুই ছাত্রী। তাঁরা হলেন রেহেনা আক্তার এবং লামিয়া আক্তার (লিমা)। তাঁরা দুজনই বহিরঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে দুটি হল সংসদে প্রার্থী হয়েছেন।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন রেহেনা। অন্যদিকে শামসুন নাহার হল সংসদের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী লামিয়া।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন ২১ আগস্ট প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, শামসুন নাহার ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদে বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে একটি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
রেহেনা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী এবং বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দলের সদস্য। এর আগে তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলে খেলেছেন। *প্রথম আলো*কে তিনি বলেন, “খেলোয়াড় হিসেবে আমার পরিচিতি থাকায় বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে হলের অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।”
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের রেহেনাকে তাঁদের ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “রেহেনার সঙ্গে আমাদের প্যানেলের কারও বোঝাপড়া হয়ে থাকতে পারে।”
একইভাবে, শামসুন নাহার হল সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী লামিয়া আক্তার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন গত শনিবার সন্ধ্যায় *প্রথম আলো*কে বলেন, “একটি নির্দিষ্ট পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকা কাকতালীয়। তবে আমরা কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা বোঝাপড়া করিনি। যেসব ছাত্রসংগঠন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, তারা কেন হল সংসদে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করল না, সেটাও অজানা। সব পদে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ভালো হতো।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৮টি হল রয়েছে, যার মধ্যে ছাত্রীদের জন্য ৫টি। প্রতিটি হল সংসদে ভিপি ও জিএসসহ ১৩টি পদ রয়েছে, যার ফলে সব হল মিলিয়ে মোট ২৩৪টি পদ রয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ১,১০৮ জন শিক্ষার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, স্বতন্ত্রসহ প্রায় ১০টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে কোনো ছাত্রসংগঠনই সব হল সংসদে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি। ছাত্রদল ১৮টি হলের মধ্যে ১৪টিতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পেরেছে। শিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ প্যানেল ঘোষণা না করলেও বিভিন্ন হল সংসদে অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে।
ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ২৮টি পদ রয়েছে। এসব পদে ৫০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৪৭টি প্রাথমিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ বিবেচিত হয়। ভিপি পদে ৪৮ জন, জিএস পদে ১৯ জন এবং এজিএস পদে ২৮ জনের প্রার্থিতা প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১২টি সম্পাদকীয় পদে ৯ থেকে ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন, এবং ১৩টি সদস্যপদের জন্য ২১৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। প্রার্থীরা চাইলে আগামী সোমবারের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ২৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। তবে ছাত্রদল, শিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের প্রার্থীরা গত শুক্রবার থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘কুশল বিনিময়’ শুরু করেছেন।
**লড়াই করেই জিততে চান সানজিদা**
এবার ডাকসুতে নতুন করে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদ যুক্ত হয়েছে। এই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সানজিদা আহমেদ (তন্বি) কে সমর্থন দিয়েছে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ-সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদসহ অন্তত পাঁচটি প্যানেল। সানজিদা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত হয়েছিলেন। তাঁর আহত হওয়ার ছবিটি গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সাড়া জাগানো ছবি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
তবে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল’সহ কেউ কেউ এই পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও কয়েকজন এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী এই পদে সানজিদাসহ ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন।
সানজিদা বলেন, “আমি লড়াই করেই জিততে চাই। নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করছি। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হলে প্রচারে নামব। নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে।”
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.