Friday, August 22, 2025

চকরিয়া থানা হাজতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হাজত থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, ওই যুবক হাজতের ভেতর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত যুবকের নাম দুর্জয় চৌধুরী (২৭)। তিনি চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী এলাকার কমল চৌধুরীর ছেলে। তিনি চকরিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের বাবা কমল চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার চকরিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম চেক জালিয়াতি ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্জয়কে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। তিনি বলেন, গত ১০-১২ দিন ধরে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দুর্জয়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এতে তিনি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে বিদ্যালয়ে ডেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটি কক্ষে জিম্মি করে রাখা হয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাবেয়া খানম থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন যে, দুর্জয় চেক জালিয়াতি ও নগদে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এরপর পুলিশ দুর্জয়কে আটক করে হাজতে রাখে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত দুর্জয়কে হাজতের ভেতর হাঁটতে দেখা গেছে। এরপর তাঁর চলাফেরা দেখা যায়নি। ভোর ৪টার দিকে পুলিশ সদস্যরা তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। চকরিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম বলেন, “দুর্জয় চেক জালিয়াতি ও নগদে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের সময় দুর্জয় আমার সঙ্গে ছিলেন। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে হাজতে রাখে। আমি চলে আসি। আজ সকালে শুনলাম দুর্জয় হাজতে আত্মহত্যা করেছেন। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা।” তিনি দুর্জয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা জিম্মি করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “থানা হাজতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে দুর্জয় চৌধুরী নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.