Monday, September 1, 2025

১৪৪ ধারা বহালসহ চবি প্রশাসনের কাছে শিবিরের ৪ দফা দাবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ ও ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন শাখা সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

সংবাদ সম্মেলনটি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ইব্রাহিম হোসেন রনি, শাখা সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ, অফিস সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শাখা সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, গত শনিবার রাতে এবং রোববার দিনব্যাপী চবি শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হাটহাজারী পুলিশ প্রশাসন এবং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৪ দফা দাবি হলো: ১. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ২. সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং পুরো এলাকা অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। ৩. ক্যাম্পাসের স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৪. ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি রাখতে হবে। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রোববার বেলা ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, গতকাল থেকে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১০ জন। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশেরই শরীর ছিলে গেছে, কেটে গেছে এবং গভীর ক্ষত ছিল। কিছু শিক্ষার্থীর শরীরে রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে। কপাল, মাথা ও শরীরেও ক্ষত ছিল। জানা যায়, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকবৃন্দ দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয়দের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল রড, পাইপ, কাঠের লাঠি ও পাথর, আর স্থানীয়দের হাতে ছিল রামদা, রড ও পাইপ। ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ গ্রামের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে, এবং অনেক শিক্ষার্থী আটকে গিয়ে মারধরের শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।
রোববার বেলা দুইটার দিকে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থী নগরের দুই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এবং একজনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.