চট্টগ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। বাংলাদেশ ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন—‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন নীরব কেন’, ‘আমার ভাই আইসিইউতে, প্রশাসন নিয়োগ বোর্ডে’।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও ইসলামী ছাত্র মজলিস সমাবেশ করে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। পরে ছাত্রদল জিরো পয়েন্ট থেকে ঝটিকা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পৌঁছালে শহীদ মিনারে থাকা শিক্ষার্থীরাও সেখানে যোগ দেন।
পাঁচ সংগঠনের দাবিগুলো হলো: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করে বিচার নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নারীবান্ধব বিশেষায়িত সেল গঠন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বহন এবং প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, “উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি। আবাসন থাকলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির বলেন, “প্রশাসন নিরাপত্তার দায় নিজেরা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এ কারণে উপাচার্যের এ পদে থাকার বৈধতা থাকে না। ঘটনার রাতে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, এর মধ্যে অন্তত ১০ জন গুরুতর। প্রশাসন এই সময়ে নির্বিকার ছিল। এই নির্বিকার প্রশাসন আমরা চাই না এবং এই দায় যদি তারা নিতে না পারে, তাহলে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া অভিযোগ করেন, “শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিতেও তারা ব্যর্থ। উপাচার্যকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “এত শিক্ষার্থী আহত হলেও প্রশাসনের মধ্যে অনুশোচনা নেই। এটা লজ্জাজনক। আমরা তাদের পদত্যাগ চাই।”
গত শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে জোবরা গ্রামে ভাড়া বাসার দারোয়ান এক ছাত্রীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যার জেরে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেদিন রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। রোববার দুপুরে আবার দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে, ইট ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়। আহত হন অন্তত ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং ১০ থেকে ১৫ জন গ্রামবাসী। ঘটনার পর দুই দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ক্যাম্পাসে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।[](https://www.dhakatribune.com/bangladesh/nation/390314/exams-at-chittagong-university-suspended-following)[](https://www.tbsnews.net/bangladesh/tense-calm-chittagong-university-after-violent-clashes-section-144-effect-classes)
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.