কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৫ বছর বয়সী হৃদরোগী মো. মহসিনকে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে। এ ঘটনায় রোগীর ছেলে মো. শোলক বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীর স্বজনরা জানান, কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা মো. মহসিন হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি পুনরায় জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে যান। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুব আলম মিলন তাকে ভর্তি না করে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বলেন। এ নিয়ে তর্কের জেরে চিকিৎসক মহসিনের স্ত্রী, মেয়ে ও ভাতিজিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে উঠে মহসিনকে লাথি মারেন, যার ফলে তার বাম উরুতে আঘাত লাগে। পরে আনসার সদস্যরা রোগীকে উদ্ধার করে ভর্তি করান। মহসিন বলেন, “অনেকদিন ধরে হার্টের অসুখে ভুগছি। হাসপাতালে ভর্তি থেকে টেস্ট ও ওষুধে প্রায় আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কোনো উন্নতি হয়নি। সোমবার আবার ভর্তি হতে গেলে ডাক্তার ভর্তি না করে বাইরের ক্লিনিকে যেতে বলেন। তর্কের সময় তিনি আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেন।” মামলার বাদী মো. শোলক বলেন, “আমার অসুস্থ বাবাকে লাথি মেরে আহত করা হয়েছে। আমার মা ও বোনকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। ডাক্তার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। আমরা তার বিচার চাই।” তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহবুব আলম দাবি করেন, “বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে লাথি মারার কোনো ঘটনা ঘটেনি। থানায় করা অভিযোগও বাদী পক্ষ তুলে নিয়েছেন।” বাদী মো. শোলক এই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, “ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক আমাদের টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছেন।” হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাছিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Wednesday, September 3, 2025
Author: DhakaGate Desk
Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.
এ সম্পর্কিত আরও খবর
- ফেইসবুক মন্তব্য