Wednesday, September 3, 2025

কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাংয়ে অভিযান, ৩৭৭ বাংলাদেশিসহ ৭৭০ বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং এলাকার জালান বেদারা সড়কের একটি ভবনে গত রাতে জুয়ার আসরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন দপ্তর। এই অভিযানে ৭৭০ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৩৭৭ জন বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম বারনামা এ তথ্য জানিয়েছে।

আকস্মিক অভিযানে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন অনেকে। কেউ ভবনের ছাদে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন, কেউ টেবিলের নিচে লুকান, আবার কেউ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। তবে সবাইকে আটক করা হয়। অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক বসরি ওসমান জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে স্থানীয়রা অভিযোগ করছিলেন যে বিদেশিরা সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে এলাকায় জড়ো হচ্ছেন। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার এই অভিযান চালানো হয়। বসরি বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তারা সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ একটি অনলাইন জুয়ার আসর খুঁজে পান। অভিযানের সময় সাতজন বিদেশিকে হাতেনাতে ধরা হয়।’ ১০৬ জন সরকারি কর্মকর্তা মিলে ২,৪৪৫ জনের নথিপত্র যাচাই করেন, যাঁদের মধ্যে ১,৬০০ জন বিদেশি এবং ৮৪৫ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৭০ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থান, পরিচয়পত্র না থাকা এবং স্বীকৃতিহীন পাস রাখার মতো অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের ৩৭৭ জন পুরুষ, মিয়ানমারের ২৩৫ জন পুরুষ, নেপালের ৭২ জন পুরুষ, ভারতের ৫৮ জন পুরুষ, ইন্দোনেশিয়ার ১৭ জন পুরুষ ও ২ জন নারী এবং অন্যান্য দেশের ৩ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের বয়স ২১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে পুত্রজায়া অভিবাসন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। পরে বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাঁদের বুকিত জলিল ও লেংগেং ইমিগ্রেশন ডিপোয় স্থানান্তর করা হয়েছে। বসরি ওসমান স্থানীয় নাগরিক ও নিয়োগকর্তাদের অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, এমন কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.