Tuesday, September 2, 2025

প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক আছে, এমন সন্দেহে চিকিৎসককে খুন করেন সাবেক সহকারী

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জনসেবা হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন

নাটোরের জনসেবা হাসপাতালের মালিক ও চিকিৎসক আবু হাসান মো. আমিরুল ইসলামকে (৬৫) তাঁর এক চাকরিচ্যুত কর্মচারী গলা কেটে হত্যা করেছেন। অভিযুক্তের সন্দেহ ছিল যে, তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে চিকিৎসকের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল, এই কারণে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টায় শহরের মাদ্রাসা মোড়ের জনসেবা হাসপাতালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। এ সময় অভিযুক্ত আবু আসাদকে ঘটনাস্থলে আনা হলেও তাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার ৩০ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে। ঘটনার পরপরই হাসপাতালের চাকরিচ্যুত কর্মচারীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আবু আসাদ জানান, তিনি ২০২৪ সাল থেকে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। এ সময় হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি তাঁকে বিয়ে করতে চাইলে চিকিৎসক তাতে বাধা দেন এবং গত আগস্টে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আবু আসাদের ধারণা ছিল, নার্সের সঙ্গে চিকিৎসকের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল, যা তাঁকে ক্ষুব্ধ করে এবং হত্যার পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করে। ১ সেপ্টেম্বর রাতে আবু আসাদ বোরকা পরে ছুরি নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। চিকিৎসক রোগী দেখতে বের হলে তিনি তাঁর কক্ষে ঢুকে খাটের নিচে লুকান। ভোর চারটার দিকে চিকিৎসক ঘুমিয়ে পড়লে তিনি ছুরি দিয়ে তাঁর গলা কাটেন এবং পরে পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন। সকাল ছয়টার দিকে বোরকা পরে তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে, তবে বোরকা চলনবিলে ফেলে দেওয়ায় তা উদ্ধার করা যায়নি।
বর্তমানে আবু আসাদ ও নার্সসহ হাসপাতালের ছয় কর্মী পুলিশ হেফাজতে আছেন। পুলিশ সুপার জানান, চিকিৎসকের স্ত্রী তাসমিন সুলতানা (৫৪) সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আবু আসাদকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং বুধবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে। অন্য আটক ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হবে।[](https://daijiworld.com/news/newsDisplay?newsID=1008406)

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.