Tuesday, September 2, 2025

যারা নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছাতে দিতে চায় না, তারা যত রকমভাবে পারবে বাধা দেবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাতটি রাজনৈতিক দল ও হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফটোসেশনে অংশ নেন
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সতর্ক করে বলেছেন, এই পথে বাধা আসবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাতটি রাজনৈতিক দল ও হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ‘যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছাতে দিতে চায় না, তারা যত রকমভাবে পারবে, বাধা দেবে। বাংলাদেশের সত্তাকে গড়ে তুলতে তারা বাধা দেবে। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে নির্বাচন বানচাল করার। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, যাতে নির্বাচন না হয়।’

কিছু কিছু লক্ষণ এখনই দেখা দেওয়ায় তিনি বলেন, ‘সামনে আরও আসবে। আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিষয় তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করব।’ তিনি এই নির্বাচনকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর ও সাহস অর্জনের নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘নিজের ভূমিতে দেশ পরিচালনার নির্বাচন। এই নির্বাচনে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।’ প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। ‘যাঁরা আগে কখনো ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা দিতে হবে। যাঁরা ভোট দিতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁদেরও ভালো অভিজ্ঞতা দিতে হবে। কেউ যেন বলতে না পারে যে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।’ প্রতি পদে বাধার সম্মুখীন হওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘তারা সবার মনে দ্বন্দ্ব তৈরি করার চেষ্টা করবে। আমরা যেন সঠিক ও স্থির থাকি। সবাই একসঙ্গে সহযোগিতা করি।’ এই নির্বাচন অনন্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন নয়। এটা দেশের সকল মানুষের, সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচন। আমরা এই নির্বাচন আয়োজনে আপনাদের সর্বাত্মক সমর্থন চাই।’ প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন দুর্গাপূজায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.