Friday, June 20, 2025

দেশে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ফ্যাটি লিভার ডে উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে অন্তত এক কোটি মানুষ লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার, হাঁটাচলার অভাব এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের অভাবে এই রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

‘কম খাই, হাঁটি বেশি, ফ্যাটি লিভার দূরে রাখি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা বলেন, ফ্যাটি লিভার এখন ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিসকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি লিভারের প্রদাহ সৃষ্টির পাশাপাশি ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমায় এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এই রোগে আক্রান্ত। সঠিক নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে এটি লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ এস এম মতিউর রহমান বলেন, “আমরা একটি ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখোমুখি। ফ্যাটি লিভারকে আমরা এখনো অবহেলা করছি, অথচ এটি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, অর্থনীতি ও পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।” তিনি খাদ্যনীতি, নগর পরিকল্পনা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
বারডেম হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. গোলাম আযম বলেন, “ফ্যাটি লিভারকে আমরা দীর্ঘদিন হালকাভাবে নিয়েছি। এটি ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং ক্যান্সারের মূল কারণ হয়ে উঠছে। ৯০ শতাংশ রোগী জানেন না তাদের এই রোগ আছে, কারণ এর কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।”
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, “স্কুল থেকে অফিস, সর্বত্র হাঁটাচলা ও খেলাধুলার পরিবেশ না থাকলে শুধু ওষুধ দিয়ে কিছু হবে না। পুষ্টিকর খাবার সহজলভ্য করতে হবে এবং ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণ বেশি এমন খাবার নিরুৎসাহিত করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে সচেতনতা, নিয়মিত হাঁটাচলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পলিসি-লেভেলে পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.