Friday, June 20, 2025

ইরানের পর পাকিস্তানকে হুমকি সাবেক ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের একজন সাবেক মন্ত্রী পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলের সাবেক উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেইর মাসরি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ হলে ইসরায়েল পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর ১৯ জুন ২০২৫-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসরি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) আরবি ও উর্দু ভাষায় পোস্ট করে লিখেছেন, “ইরানের অভিযান শেষ হলে আমরা পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে পারি।” তিনি আরও লিখেছেন, “পাকিস্তান ইরান থেকে খুব দূরে নয়। আপনার উপলব্ধিই যথেষ্ট।” যদিও মাসরি বর্তমানে ইসরায়েলের কোনো সরকারি পদে নেই, তিনি লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একজন হিসেবে রাজনৈতিক ও কৌশলগত মহলে প্রভাবশালী।
মাসরির এই হুমকির পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে মাসরির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। অনেকে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ।
এর আগে, ১৬ জুন ২০২৫-এ পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইসরায়েলকে উদ্দেশ করে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আমাদের বার্তা পরিষ্কার—ইসরায়েল যেন পাকিস্তানের দিকে চোখ তুলে না তাকায়।” তিনি জানান, পাকিস্তান পুরোপুরি সতর্ক এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।
সামাজিক মাধ্যমে কিছু গুজব ছড়িয়েছে যে, ইরানের ওপর হামলার জবাবে পাকিস্তান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। মাসরির মন্তব্য এই অঞ্চলের জটিল পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.