Sunday, June 22, 2025

চৌগাছা পশুরহাটে দেড় কোটি টাকা রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ

যশোরের চৌগাছা পৌরসভার পশুরহাট থেকে বিগত চার বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে সাবেক মেয়র নূর উদ্দীন আলম মামুন হিমেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হিমেলের নেতৃত্বে ইজারাদার আবিদুর রহমান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই চক্রটি আবারও পশুরহাট দখলের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ টাকা রাজস্ব পৌরসভার কাছে বকেয়া রয়েছে। ২০২১ সালে ইয়ামুল অর রশীদ টিটো ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় হাটের ইজারা নিলেও ২৬ লাখ ৪ হাজার ২০০ টাকা বকেয়া রেখেছেন। ২০২২ সালে শামীম রেজার কাছে ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, ২০২৩ সালে আসিফ ইকবাল ভুট্টোর কাছে ৩৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং ২০২৪ সালে মিজানুর রহমানের কাছে ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ লোপাটে জড়িতদের মধ্যে সাবেক মেয়র হিমেল, টিটো, শামীম, ভুট্টো, মিজানুর, আবিদুর রহমান এবং পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লালের নাম উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চৌগাছা পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমান প্রশাসক তাসমিন জাহান পৌরসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালের জন্য পশুরহাটের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করলে সাবেক মেয়র হিমেলের সহযোগীরা হাট দখলের চেষ্টা চালায়। ইজারাদার আবিদুর রহমান বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় টেন্ডার ছাড়াই হাট নিতে চাপ সৃষ্টি করছেন। বর্তমানে হাটের দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। উচ্চ আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত হাটের রাজস্ব পৌরসভার তত্ত্বাবধানে আদায় হবে।
স্থানীয় ঠিকাদার আতিকুর রহমান লেন্টু অভিযোগ করেন, সাবেক মেয়র হিমেল, আবিদুর রহমান ও বিএনপি নেতা লালের নেতৃত্বে এই অর্থ লোপাট করা হয়েছে। তবে, আতাউর রহমান লাল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক তাসমিন জাহান জানান, হাট নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.