Wednesday, June 11, 2025

জামালপুরে অপহরণের ৭৪ দিন পর কিশোরকে উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী

জামালপুর, ১১ জুন ২০২৫: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নুহাশ আজিজ (১৬) নামে এক কিশোরকে অপহরণের ৭৪ দিন পর উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানী ঢাকার গ্রিন লাইফ মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে উদ্ধার করে জামালপুরের সরিষাবাড়ির তারাকান্দি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প। রাতেই নুহাশকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নুহাশ আজিজ সরিষাবাড়ীর জগন্নাথগঞ্জ এলাকার মৃত মতিউর রহমান ও শামীমা আফরোজ রুনার ছেলে। তিনি ঢাকার একটি স্কুলে নবম শ্রেণির ছাত্র। তারাকান্দি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ নুহাশকে তার খালা সাইদা দিল আফরোজ ও তার মেয়ের জামাই লিটন অধিকারী ঢাকার উত্তরা কামারপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে অপহরণ করেন। পরে তাকে মাদকাসক্তির অজুহাতে গ্রিন লাইফ মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও নিরাময় কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়।
অপহরণের পর নুহাশের পরিবার বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজতে থাকে। কোনো সন্ধান না পেয়ে নুহাশের মা শামীমা আফরোজ প্রথমে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা এবং টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে কোনো ফল না পাওয়ায় পরবর্তীতে তারাকান্দি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নুহাশের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং পরিবার ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
নুহাশের মা শামীমা আফরোজ বলেন, “আমি ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ করেছিলাম। পরে তারাকান্দি সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করি। গতকাল রাতে সেনাবাহিনী আমার ছেলেকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।”
তারাকান্দি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের (২৬ বীর) লেফটেন্যান্ট শাহরিয়ার তালুকদার রিফাত জানান, “অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর সেনাবাহিনী অভিযানে নামে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নুহাশকে রাজধানীর গ্রিন লাইফ মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এই ঘটনা সেনাবাহিনীর দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি সফল উদ্ধার অভিযানের উদাহরণ।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.