যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট দলের একাধিক কংগ্রেস সদস্য। কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এই হামলাকে ‘সংবিধান লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত কংগ্রেসওমেন রাশিদা তালিব।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তালিব বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আর কোনো চিরস্থায়ী যুদ্ধ চায় না। মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ আমাদের কী পরিণতি এনেছে, তা আমরা দেখেছি। এই যুদ্ধগুলো মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। যেমন, ইরানের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র থাকার মিথ্যা দাবি। আমরা এবার সেই ফাঁদে পড়ব না।”
তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক’ বলে সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের কথা শোনার পরিবর্তে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কথা শুনছেন। যিনি ইরাক নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন, এখন আবার ইরান নিয়ে মিথ্যা বলছেন।”
তালিব জোর দিয়ে বলেন, “কংগ্রেসকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজেদের যুদ্ধক্ষমতা প্রয়োগ করে এই অসাংবিধানিক যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। অনেক আইনপ্রণেতা মনে করেন, প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধের পথে যাওয়া উচিত নয় এবং এ ধরনের পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে, যা আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ.আই/এম.আর
