Monday, June 23, 2025

বিতর্কিত নির্বাচনের জন্য কমিশন দায়ী নয়, আদালতে নুরুল হুদার বক্তব্য

ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৫: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা আদালতে বলেছেন, বিতর্কিত নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করা যায় না। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুনানির সময় বিচারক নুরুল হুদাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দায়িত্ব পালনকালে শপথ ভঙ্গ করেছেন কি না। জবাবে তিনি ‘না’ বলেন এবং দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্য ও ১৬ লাখ কর্মী-কর্মকর্তার সমন্বয়ে নির্বাচন পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, “ঢাকায় বসে কোথায় কেমন নির্বাচন হচ্ছে, তা দেখার সুযোগ নেই।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যেকোনো অনিয়মের বিষয়ে হাইকোর্টের এখতিয়ার রয়েছে, এবং কমিশনের পক্ষে নির্বাচন বন্ধ করা সম্ভব নয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার নুরুল হুদার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, নুরুল হুদা ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন এবং রাতে ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় টাকা ও বিরিয়ানি বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজিব রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, মামলার ধারাগুলো জামিনযোগ্য এবং রিমান্ডের আবেদন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী জানান, নুরুল হুদা মুক্তিযুদ্ধে সাব-কমান্ডার হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন এবং পটুয়াখালী জেলা মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আধা ঘণ্টার শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড বাতিলের আবেদন নাকচ করে নুরুল হুদার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলাটি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান দায়ের করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.