দুবাই, ২২ জুন, ২০২৫ – ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। এই হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। রোববার (২২ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার রাতে হোয়াইট হাউজ থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করেছে। তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মত না হলে ইরানকে আরও ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর রোববার বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব চূড়ান্ত নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বন করে। বাহরাইন সরকার নাগরিকদের প্রধান সড়কগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কুয়েত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ভবনে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাহরাইন ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং সিভিল সার্ভিস ব্যুরোর নির্দেশ অনুযায়ী, ৭০% সরকারি কর্মচারীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান এর আগে বহুবার সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালালে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সম্পদ, বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয় রয়েছে, এবং সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে কোনো পারমাণবিক দূষণের লক্ষণ শনাক্ত করা যায়নি।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাগরিকদের জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং কর্তৃপক্ষের কার্যকর সড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ছাড়া প্রধান সড়কগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কৌশল ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের (আইআইএসএস) মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো হাসান আল-হাসান সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে, বিশেষ করে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারকে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এ.আই/এম.আর
