জেরুজালেম, ২৪ জুন, ২০২৫ – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল রাজি হয়েছে, কারণ তাদের সামরিক অভিযান "অপারেশন রাইজিং লায়ন" এর সব লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ১২ দিনের সংঘাতের পর এই ঘোষণা এলো, যেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
সোমবার রাতে (২৩ জুন, ২০২৫) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু অভিযানের সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মোসাদ প্রধানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি জানান, অভিযানটি প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য "দ্বৈত হুমকি" হিসেবে চিহ্নিত করে তা নির্মূল করা হয়েছে।
প্রধান অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- তেহরানের আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হাতে।
- ইরানের সামরিক নেতৃত্বের বড় ধরনের ক্ষতি, যাকে অপূরণীয় বলা হয়েছে।
- ইরান সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার হত্যা।
- ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির নির্মূল।
বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা সহায়তা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। ইসরায়েল সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির কোনো লঙ্ঘন হলে তারা "সর্বশক্তি দিয়ে" পাল্টা জবাব দেবে।
ট্রাম্প ও কাতারের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ডো, নাতানজ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং ইসরায়েলের তেহরানের এভিন কারাগারসহ সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের পর এসেছে। এই সাফল্য নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নমনীয়তার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা, রয়টার্স, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
এ.আই/এম.আর
