পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরে পানির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে প্রতি বছর বালু ক্ষয়ে সৈকতের পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এই অব্যাহত ভাঙনের কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন কেন্দ্রটি তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। সৈকতের কিছু অংশ নিচু, কিছু অংশ উঁচু, এমনকি কোথাও কোথাও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা সৈকত রক্ষায় জরুরি ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভাঙনের শিকার কুয়াকাটা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিডরের (২০০৭) পর থেকে কুয়াকাটা সৈকতে বালু ক্ষয় তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস এবং পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের বিশাল ঢেউ সৈকতে আঘাত হানছে, যার ফলে পাড়ের বিশাল অংশ ফাটল ধরে বিলীন হচ্ছে। সৈকত সংলগ্ন ১৩০০ মিটার সড়কের পাড় ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। সংরক্ষিত ঝাউ বন, নারিকেল বাগান, জাতীয় উদ্যানের সীমানা প্রাচীর, এলজিইডির বায়োগ্যাস প্লান্ট, ডাকবাংলো, হোটেল কিংসসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।
ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
ভাঙনের কারণে জাতীয় উদ্যানের ভাঙা প্রাচীরের রড ও ধারালো স্লাব পানির নিচে লুকিয়ে রয়েছে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া লেম্বুর চর, ঝাউবন, ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স, সরদার মার্কেট, কুয়াকাটা জামে মসজিদ, শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির এবং ট্যুরিজম পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বালু ক্ষয় অব্যাহত থাকলে বেড়িবাঁধ ভেঙে আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন ঘরামী জানান, সিডরের আগে সৈকত থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব ছিল প্রায় অর্ধ কিলোমিটার। কিন্তু বালু ক্ষয়ের কারণে এখন অনেক স্থাপনা হারিয়ে গেছে। কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার জিওব্যাগের নামে অর্থ লোপাট বন্ধ করে স্থায়ী গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, সৈকত রক্ষায় অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে কাজ শুরু হবে। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সাবেক মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের সময়ে নিয়ম না মেনে সড়ক নির্মাণের ফলে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।
কুয়াকাটা সৈকত বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এর সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
