অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো বিধান রাখা হয়নি। রোববার (২২ জুন, ২০২৫) বাজেট পাস-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, “ঋণের টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।”
এদিন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বাজেটের আকার চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। গত ২ জুন টেলিভিশনের মাধ্যমে এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৩.৬ শতাংশ, যা দেশি ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটে ৫.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনসমালোচনার মুখে ফ্ল্যাট কেনা ও ভবন নির্মাণে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনমত গ্রহণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নাগরিকদের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এছাড়া ব্যবসায়িক চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যখন বাকি ৫২টির কারও বরাদ্দ কমেছে বা অপরিবর্তিত রয়েছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে এই বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হবে। জাতীয় সংসদ না থাকায় বাজেট নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি, তবে সরকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানানো হয়।
এ.আই/এম.আর
