সিলেট, ২২ জুন, ২০২৫: সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে অবৈধ উত্তোলনের মহোৎসব প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের কেন্দ্র জাফলং, বিছনাকান্দি, সাদাপাথর, ও ভোলাগঞ্জকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এই লুটপাট চলছে, যা পরিবেশ ও পর্যটন খাতের জন্য মারাত্মক হুমকি।
চার উপজেলায় ৩০০টি অবৈধ ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও পাথর লুট থামছে না। গত ৫ আগস্ট, ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় একদিনেই প্রায় ২০০০ কোটি টাকার পাথর ও বালু লুট হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এই অপরাধী চক্রকে উৎসাহিত করেছে।
১৪ জুন, ২০২৫-এ অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (বন ও পরিবেশ) এবং মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান (বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ), ইসিএ ঘোষিত জাফলং পরিদর্শনে আসেন। ফেরার পথে তাদের গাড়িবহর বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা আটকে দেন, বন্ধ কোয়ারি খোলার দাবিতে। পুলিশ ও বিজিবি প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর জাফলং ইসিএ ঘোষণার পর ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ৩৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট পাথর মজুত ছিল। ৫ আগস্টের পর লুটপাটে এর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে, যার বাজারমূল্য ১০০ কোটি টাকার বেশি। বালুও লুটপাট হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সরকার কোয়ারি বন্ধ ঘোষণা করলেও, সাবেক সাংসদ ইমরান আহমদের সহযোগী সুভাস দাশ ও ফজলুল হকের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে অবৈধ উত্তোলন চলত। ৫ আগস্টের পর নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে জাফলংয়ে লুটপাটের ঘটনায় ২২৬ জনের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে একজন ২৭ এপ্রিল, ২০২৫-এ গ্রেপ্তার হন। কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় পাথর উত্তোলনের অভিযোগে ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫-এ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়, কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চললে পর্যটন স্পটগুলো পাথরশূন্য হয়ে পড়বে। পরিবেশ আন্দোলনকারী আবদুল করিম কিম প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন, আর সুজনের ফারুক মাহমুদ ধ্বংসযজ্ঞে হতবাক। জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ দাবি করেন, ৩০০টি ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু স্থানীয়রা এতে সন্তুষ্ট নন।
এ.আই/এম.আর
