চট্টগ্রাম, ২২ জুন ২০২৫: চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনাকারী বিতর্কিত অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী ৬ জুলাই শেষ হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে টার্মিনালটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বন্দরে প্রভাব বিস্তারকারী সাইফ পাওয়ারটেকের বিদায়ঘণ্টা বাজছে।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, এনসিটি পরিচালনার জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্বভাবে টার্মিনালটি পরিচালনা শুরু করবে। এই উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি চিঠি লিখে ৬ মাসের জন্য আনুমানিক ৪২ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছেন। এই বাজেট কি-গ্যান্ট্রি ক্রেন, রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং আইটি ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য মাসিক ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যবহৃত হবে।
গত ১৮ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এনসিটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসার ও মুখপাত্র নাসির উদ্দিন জানান, মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুমোদন পেলে চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে বন্দরের মেকানিক্যাল ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা সাইফ পাওয়ারটেকের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এর আগে, এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে না দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষ সরব হয়েছিল। তবে অনেকে অভিযোগ করেন, এই আন্দোলনের আড়ালে সাইফ পাওয়ারটেককে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন ফাঁস করা একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দাবি করেন, সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন বন্দর অচল করতে টাকা ঢেলে নির্দেশনা দিয়েছেন।
২০০৫ সালে যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দিয়ে বন্দরে যাত্রা শুরু করে সাইফ পাওয়ারটেক। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলটির শীর্ষ নেতাদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ বন্দরের বিভিন্ন খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নূর-ই-আলম চৌধুরী, সামশুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি বন্দরে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে।
এ.আই/এম.আর
.jpg)