Sunday, June 22, 2025

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত, এলাকায় উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় অটোরিকশা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন বন্দর উপজেলার হাফেজীবাগ এলাকার আব্দুল কুদ্দুস (৬০) এবং সালেহ নগর এলাকার মেহেদী (৩৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর রেললাইন অটোস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশার অনুসারী রনি-জাফর গ্রুপ এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু-মেহেদী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার এই দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহী মসজিদ এলাকায় বাবু-মেহেদী গ্রুপের লোকজন রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক আব্দুল কুদ্দুসকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থকরা রেললাইন-সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।
প্রতিশোধ হিসেবে, রাত ১টার দিকে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠের কাছে মেহেদী ও তার সঙ্গীদের দেখে রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন তাদের ধাওয়া করে। মেহেদীকে ধরে গণপিটুনি ও ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়। তাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “রাতে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.