Saturday, July 19, 2025

দক্ষিণ সিরিয়ায় সংঘাতে ৯৪০ জন নিহত

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সুয়েইদা প্রদেশে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরায়েল সিরিয়া সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। গত শুক্রবার তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক এ তথ্য জানিয়েছেন। সিরিয়া সরকারও যুদ্ধবিরতি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এই সংঘাতে নারী ও শিশুসহ ৯৪০ জন নিহত হয়েছেন।

সুয়েইদায় সংঘাত শুরু হয়েছিল ১৩ জুলাই দ্রুজ ও বেদুইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে। সিরীয় বাহিনী এই সংঘাত থামাতে হস্তক্ষেপ করে, কিন্তু দ্রুজ যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। ১৬ জুলাই দ্রুজদের রক্ষার দাবিতে ইসরায়েল দামেস্কে হামলা চালায়। পরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সিরীয় সেনারা সুয়েইদা ত্যাগ করে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে টম বারাক ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির কথা নিশ্চিত করেন। তুরস্ক, জর্ডান ও প্রতিবেশী দেশগুলো এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুজ, বেদুইন ও সুন্নিদের অস্ত্র পরিত্যাগ করে অন্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে মিলে সিরিয়ার নতুন ও ঐক্যবদ্ধ পরিচয় গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা “অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি” নিশ্চিত করে বলেন, “এই মুহূর্তে বিভিন্ন শাখার মধ্যে ঐক্য ও পূর্ণ সহযোগিতার প্রয়োজন।” বৃহস্পতিবার তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ইসরায়েল সিরিয়াকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে

দ্রুজ একটি ক্ষুদ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী, যারা সিরিয়া, ইসরায়েল ও লেবাননে বাস করে। ইসরায়েল দাবি করে, দ্রুজদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চলছে। এই সহিংসতা থামাতে ১৬ জুলাই দামেস্কে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। শুক্রবার সকালেও সুয়েইদায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েল শুক্রবার ৪৮ ঘণ্টার জন্য সুয়েইদায় সীমিত পরিসরে সিরীয় সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিলেও, সিরিয়া সরকার পরে প্রদেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ও আরও সংঘাত এড়াতে সেনা পুনরায় মোতায়েনের কথা জানায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকে সুয়েইদায় ৯৪০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩২৬ জন দ্রুজ যোদ্ধা, ২৬২ জন দ্রুজ বেসামরিক, ৩১২ জন সিরীয় সেনা এবং ২১ জন বেদুইন গোষ্ঠীর সদস্য রয়েছেন। সিরিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও শুক্রবার হাজার হাজার বেদুইন যোদ্ধা সুয়েইদায় প্রবেশ করছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে, যা নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ প্রায় নেই, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

সুয়েইদার ২৮ বছর বয়সী বাসিন্দা মুদার রয়টার্সকে বলেন, “চার দিন ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাবার, পানি—কিছুই নেই। সংঘাত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় খবর পাওয়া কঠিন।” স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুয়েইদা-২৪ জানিয়েছে, সুয়েইদার উত্তর ও পশ্চিমে সংঘাত চলছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সুয়েইদায় নির্বিচার হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে, যেখানে সেনাসদস্য, দ্রুজ ও বেদুইন যোদ্ধারা জড়িত।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের অভিযানে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন হয়। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন আহমেদ আল-শারা, যিনি বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও ইসরায়েল আল-শারাকে ‘জিহাদি’ হিসেবে অভিহিত করে এবং আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় হামলা বাড়িয়েছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.